উত্তরাধিকার সম্পত্তি নামজারি করতে কী কী ডকুমেন্টস লাগে? | uttoradhikar calculator

 

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি বা মিউটেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রতীকী ছবি।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির মালিকানা আইনগতভাবে নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নামজারি বা মিউটেশন (Mutation)। নামজারি না করলে পরবর্তীতে জমি বিক্রি, দান বা ব্যাংক লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়তে হয়।

​অনেকেই মনে করেন নামজারি করার প্রক্রিয়াটি ভীষণ জটিল। কিন্তু সঠিক কাগজপত্র সাথে থাকলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে সহজেই ই-নামজারি (e-Mutation) করা সম্ভব।

​উত্তরাধিকার সম্পত্তি নামজারি করতে ঠিক কী কী ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র লাগবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

​উত্তরাধিকার নামজারির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা

​ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদনের জন্য মূলত নিচে উল্লিখিত ডকুমেন্টসগুলো স্ক্যান করে (PDF বা JPEG ফরম্যাটে) আপলোড করতে হয়:

​১. মূল ওয়ারিশন সনদ (Succession Certificate)

​ভূমি মালিকের মৃত্যুর পর তার বৈধ ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী কারা, তা প্রমাণ করার জন্য এটি সবচেয়ে জরুরি কাগজ।

  • ​এটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে নিতে হবে।
  • ​সনদে সমস্ত ওয়ারিশদের নাম, মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

​২. মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate)

​যার সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর আপনারা উত্তরাধিকারী হয়েছেন, সেই মূল মালিকের সরকারি মৃত্যু সনদ লাগবে। এটিও স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

​৩. সর্বশেষ খতিয়ান (Record of Rights / ROR)

​মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সর্বশেষ রেকর্ডীয় খতিয়ান সাবমিট করতে হবে। যেমন:

  • বিএস (BS) / বিআরএস (BRS) খতিয়ান
  • ​অথবা এলাকাভেদে সর্বশেষ যে জরিপ (CS, SA, RS) হয়েছে, তার সার্টিফাইড কপি।

৪. বায়া দলিল (Chain Deeds)

​যদি সম্পত্তিটি মৃত ব্যক্তি নিজে ক্রয় করে থাকেন (উত্তরাধিকার সূত্রে না পেয়ে থাকেন), তবে তার ক্রয়ের মূল দলিল বা সার্টিফাইড কপি লাগবে। একে বায়া দলিল বলা হয়, যা মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।

​৫. সর্বশেষ দাখিলা বা ভূমির উন্নয়ন কর (Khajna Receipt)

​জমিটির সর্বশেষ অর্থনৈতিক বছরের ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের রশিদ (দাখিলা)। খাজনা বকেয়া থাকলে নামজারি আবেদন সাধারণত বাতিল বা স্থগিত হয়ে যায়।

​৬. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ছবি

  • ​সকল ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি।
  • ​আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • ​(যদি কোনো ওয়ারিশ অপ্রাপ্তবয়স্ক বা প্রবাসী হন, তবে তার পক্ষে আইনগত অভিভাবক বা আমমোক্তার/পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহীতার NID)।

​৭. বন্টননামা দলিল (আপশনাল কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী)

​যদি ওয়ারিশদের মধ্যে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে থাকে, তবে রেজিস্ট্রি করা আপস-বন্টননামা দলিল (Amicable Partition Deed) যুক্ত করতে হবে। এটি থাকলে কার অংশে কতটুকু জমি পড়েছে তা সহজে বোঝা যায় এবং নামজারি দ্রুত হয়। যদি বন্টননামা না থাকে, তবে ফারায়েজ (Faraiz) অনুযায়ী অংশ বন্টন হবে।


Ads:

আপনি আপনার কন্টেন্ট মনিটাইজ করতে পারেন সহজেই। 

​নামজারি আবেদনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১. ডিজিটাল ফরম্যাট তৈরি রাখুন: অনলাইনে আবেদনের আগে সমস্ত কাগজের স্পষ্ট স্ক্যান কপি (মোবাইল দিয়ে ভালো করে ছবি তুলেও নেওয়া যায়) তৈরি রাখুন। ফাইলের সাইজ যেন নির্দিষ্ট সীমার (সাধারণত প্রতিটি ফাইল ১ মেগাবাইটের কম) মধ্যে থাকে।

২. মোবাইল নম্বর: আবেদনে এমন একটি সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন যা আপনার NID দিয়ে রেজিস্ট্রি করা। কারণ আবেদনের আপডেট, ফি প্রদানের SMS এবং শুনানির নোটিশ এই নম্বরেই আসবে।

৩. ফি প্রদান: বর্তমানে নামজারি আবেদনের কোর্ট ফি (২০ টাকা) এবং নোটিশ জারি ফি (৫০ টাকা) অনলাইনেই (বিকাশ, রকেট, উপায় বা কার্ডের মাধ্যমে) পরিশোধ করতে হয়। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর ডিসিআর (DCR) ফি হিসেবে আরও ১,১০০ টাকা অনলাইনে দিতে হবে।

​শেষ কথা:

​উত্তরাধিকার সম্পত্তি পাওয়ার পর অলসতা বা অবহেলা করে নামজারি না করে ফেলে রাখা একদমই উচিত নয়। ভূমি আইন এখন অনেক আধুনিক এবং ডিজিটাল। তাই ওপরের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে আজই ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (land.gov.bd) থেকে ই-নামজারির আবেদন করে ফেলুন এবং আপনার আইনি মালিকানা সুরক্ষিত রাখুন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

https://omg10.com/4/10872597

⚠️ এই ক্যালকুলেটর শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারযোগ্য